মামাতো ভাইয়ের কবরে মিলল ফুফাতো ভাইয়ের মরদেহ

শরীয়তপুর সদর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর একটি পুরোনো কবর থেকে মন্টু বেপারী ওরফে মনু বেপারী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের চর চটাং এলাকার মাদবর বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে মনু বেপারীর প্রথম স্ত্রী মারা যান। পরে তিনি একই এলাকার মৃত সিরাজ মোল্লার স্ত্রী এবং রুদ্রকর ইউনিয়নের হাসেম খানের মেয়ে খাদিজা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রায় ছয় মাস আগে খাদিজা বেগম তাকে তালাক দেন। এরপর মনু বেপারী তার কাছ থেকে নেওয়া সাত লাখ টাকা ফেরত চেয়ে আদালতে মামলা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। গত ২৭ মার্চ থেকে হঠাৎ করেই স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় মনু বেপারীর। পরে তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গত ১৩ এপ্রিল তার বোন মিনারা বেগম পালং মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সোমবার সকালে মনু বেপারীর বোন মিনারা বেগম বাড়ির পাশে তিন বছর আগে মারা যাওয়া মামাতো ভাই সাহেব আলী মাদবরের কবরে নতুন মাটি দেখতে পেলে সন্দেহ তৈরি হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে পুলিশ পুরাতন কবর খুঁড়ে মনু বেপারীর মরদেহ দেখতে পায়।
এদিকে ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে মনু বেপারীর মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক মাদবর ও স্ত্রী পারভীন গা ঢাকা দেয়। এ ঘটনায় দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি স্বজন ও স্থানীয়দের।
মনু বেপারীর মেয়ে মিম আক্তার বলেন, আমার বাবার পরে বিয়ে করা স্ত্রী বাবার থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়ে বাবাকে ডিভোর্স দেয়। এ ঘটনায় বাবা একটি মামলা করেন। সে কারণে সে ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার মামাতো ভাইয়ের ছেলে ফারুক ও তার স্ত্রীকে টাকা খাইয়িয়ে বাবাকে মেরে ফেলেছে। তারা লাশ গুম করার জন্য একটি ঘরের মধ্যে মাটিচাপা দিয়ে রেখেছিল, সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে ভেবে পুরাতন কবরে রেখে আসছে। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।
মনু বেপারীর বোন মিনারা বেগম বলেন, আমি আমার ভাইকে অনেক জায়গায় খোঁজ করেছি। কিন্তু তাকে খুঁজে পাইনি। আমি থানায় জিডি করেছি। আমার ভাই তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যে মামলা করেছিল তার আগামীকাল আদালতে শুনানি ছিল। আমার ভাইয়ের বউ লোকজন দিয়ে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িত সবার বিচার চাই।
বিষয়টি নিয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) ড. আশিক মাহমুদ বলেন, গত ১৩ তারিখ মনু বেপারীর নিখোঁজের জিডি হয়েছিল। তার অনুসন্ধান করতে এসে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পুরাতন একটি কবরের মধ্যে পাওয়া যায়। আমরা ধারণা করছি কেউ তাকে হত্যা করে মাটির নিচে রেখেছে। মরদেহটি যেহেতু মাটির নিচে তাই ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে কবর খনন করে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।












