দল-মত নির্বিশেষে সকল দরিদ্র পরিবার পাবে `ফ্যামিলি কার্ড`

দেশের কোনো পরিবারই সরকারের সেবামূলক কর্মসূচির বাইরে থাকবে না বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, `ফ্যামিলি কার্ড` কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নের সকল পরিবারকে আনা হবে এবং এই কার্ডটি ইস্যু করা হবে পরিবারের নারী সদস্য বা মায়ের নামে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩নং সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত `ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি`র আওতায় গবাদি পশু বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, "আমরা ইতোমধ্যে ১৫টি অঞ্চলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছি। এই কার্ড বিতরণে কোনো দলীয় বা ধর্মীয় পরিচয় দেখা হবে না। হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্তরা এই কার্ডের সুবিধা সরাসরি ভোগ করবেন। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, কার্ডের জন্য কাউকে অফিসে যেতে হবে না; সরকারি কর্মকর্তারা বাড়িতে গিয়ে কার্ড পৌঁছে দেবেন।কৃষকদের জন্য সুখবর দিয়ে ডা. জাহিদ জানান, বর্তমান সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া কৃষির আধুনিকায়নে আগামী ১৬ মার্চ থেকে সারাদেশে ৫৩টি জেলায় একযোগে খাল খনন ও পুনর্খনন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। তিনি বলেন, "শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা এই কর্মসূচি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে পুনরায় গতিশীল করা হচ্ছে, যা সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রসঙ্গে মন্ত্রী কঠোর নির্দেশনা দিয়ে বলেন, প্রতিটি গ্রাম ও ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রকৃত ভিক্ষুকদের তালিকা তৈরি করে তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসিত করতে হবে। বিতরণকৃত গবাদি পশু বিক্রি বা জবাই না করে লালন-পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতরের ভিজিএফ চাল বিতরণে কোনো প্রকার অনিয়ম বা `নয়-ছয়` সহ্য করা হবে না বলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করে দেন তিনি।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী `জিরো টলারেন্স` নীতি ঘোষণা করে বলেন, "মাদক, জুয়া, বালু উত্তোলন বা চাঁদাবাজির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, প্রশাসনকে চোখ বন্ধ করে আইন প্রয়োগ করতে হবে।" অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী প্রতীকী হিসেবে উপকারভোগীদের মাঝে ছাগল হস্তান্তর করেন।












