ঝরা পাতার বিদায় লগন

ঝিঁঝিঁর বুকের গোপন অলিন্দে
ক্ষরণ, দহণ, গলন
একে একে ক্যানভাসে ভেসে ওঠে
দরদী মানুষের বিমূর্ত অবয়ব,
ভালোবাসার মায়াবী পটভূমি।
গোধূলী লগ্নে নিঃসীম আঁধারের মায়াময়
রূপ পান করে অস্তাচলগামী সুর্যকে বলি-
এসো মোর সারথী, সকল আলো নিভে যাক,
আমরা আঁধার পিপাসু, আঁধারে অবগাহন করি।
জীবনলিপিতে আদিগন্ত আলোকচ্ছটার ছিলো মাখামাখি।
সে আলো কেউ কভু দেখেনি, খুঁজেও নেয়নি।
স্ফটিকস্বচ্ছ্ব জীবনের বেলাভূমিতে হটাৎ নিছক কালিমা লেপন-
সময়ের লোভী জিভ যার চৌহদ্দীতে পদচিহ্ন রাখতে পারেনি কভু,
সেও আজ দুর্লঙ্ঘ্য দৈব-দুর্বিপাকে দেবালয় থেকে নির্বাসিত।
স্বপ্ন আজ আমার উঠোন পেরোতে পারলো না।
চিনচিনে কিছু ব্যাথা জনান্তিকে বুকে কেটে দিয়েছে নির্বাসনের আঁচড়।
চোরাস্রোত একবারও জানতে চায়নি দুঃখের সজ্ঞা কী?
বুকের পাঁজর খুলে দেখাতে পারিনি হিরণ্ময় সত্যের দিনলিপি।
সত্যের প্রোজ্জ্বল স্বরলিপিতে নির্মিত হলো দুঃখের সিম্ফনি।
আমার সাঁজোয়া সান্ধ্য ভাষায় দুটি কথা কলি- মন খুলে বলি,
“নিথর দেহের শুভ্র কফিন বাঙময় হয়ে ওঠে বলে, চিরপ্রস্থানে আমি পুলকিত, উদ্বেলিত, নির্ভার, অবমুক্ত।
আমার মুকুলে ফোটা ফাগুন ওপারে ছড়াবে শান্তির নিটোল স্নিগ্ধ আগুন।
বুকের রক্তজবায় মাখা ভালোবাসা দিয়ে তোমাদের বলি, আমি মুক্ত প্রাণে
হবো উর্ধগামী, কি ছিলেম আমি তা জানেন আমারই অন্তর্যামী।

